Breaking News
Home / Education / কখনো ঘড়ির কাঁটা ধরে পড়িনি বলে আজ চাকরি পেলামঃ অশোক

কখনো ঘড়ির কাঁটা ধরে পড়িনি বলে আজ চাকরি পেলামঃ অশোক

বিসিএসের প্রেমে পড়ে সরকারি চাকরির বয়স যখন শেষ হওয়ার পথে, ঠিক তখনই একটি জাতীয় পত্রিকায় দেখি সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। সাব-ইন্সপেক্টর পদে আবেদন করে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ লাভ করি। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে (ডিজিএফআই) প্রথম পোস্টিং হয়। সেখানে কিছুদিন চাকরি করি। পরে উপপুলিশ পরিদর্শক (সাব-ইন্সপেক্টর) পদে চূড়ান্তভাবে যোগদান করি। আমি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। শৈশব কেটেছে গ্রামে।

২০০৫ সালে পলাশবাড়ী এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০৭ সালে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক করে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা আসি। সাহিত্য ছিল আমার ভালোলাগা-ভালোবাসার জায়গা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য পড়ার সুযোগ পেলেও বাবার ইচ্ছায় ভর্তি হই অর্থনীতি বিভাগে। কারণ আমার ভাই তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। সাহিত্য বাদ দিয়ে আমার বন্ধুত্ব করতে হয় ডিমান্ড, সাপ্লাই, ইকুইলিব্রিয়ামের

বিভিন্ন গ্রাফ আর ইকুয়েশনের সঙ্গে। কিন্তু অর্থনীতি আমাকে কখনোই আকর্ষণ করেনি। আমার বরাবরের আগ্রহ সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, সংগীত, জাতীয় ও বিশ্বরাজনীতি, দেশ ও বহির্বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যু। প্রচুর উপন্যাস, গল্পের বই, সংবাদপত্র পড়তাম, টিভিতে খবর দেখতাম। আমার ধারনা, প্রতিনিয়ত এ বিষয়গুলোর সংস্পর্শে থাকায় আমার মধ্যে এক প্রকার বোধ তৈরি হয়। এই গভীর জীবনবোধ আমাকে চাকরির বিভিন্ন লিখিত পরীক্ষায় প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য

করেছে। কখনো ঘড়ির কাঁটা ধরে পড়িনি। চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যা পড়তাম, আনন্দের সঙ্গেই পড়তাম। যখন পড়ার ইচ্ছা করত, পড়তাম। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই ভালো ছিলাম, কিন্তু সমস্যা হতো গণিতে। গণিত আমার কাছে কঠিন লাগত। এ জন্য দীর্ঘ সময় নিয়ে অষ্টম ও নবম শ্রেণির গণিত বই অনুশীলন করেছি। পাটিগণিত থেকে লসাগু, গসাগু, ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত-সমানুপাত প্রভৃতি অধ্যায় অনুশীলন করেছি। এতে খুব ভালো

ফল পেয়েছি। বাংলাদেশে যেকোনো শ্রেণির সরকারি চাকরি প্রাপ্তির মহৌষধ হচ্ছে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির গণিত ও নবম শ্রেণির বোর্ডের বাংলা ব্যাকরণ বই। বাংলা পড়তে আমার খুব ভালো লাগত। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের নাম, জন্ম-মৃত্যু সাল, তাঁদের বিখ্যাত ও উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম ছিল আমার নখদর্পণে। বাংলা পরীক্ষায় রচনা, ভাবসম্প্রসারণ ও পত্রলিখন এসে থাকে। বাংলা অংশে ভালো করার জন্য ব্যাকরণ অংশে বেশি জোর দিয়েছি। ব্যাকরণ অংশে কারক, বিভক্তি,

শব্দ, ভাষা, সন্ধিবিচ্ছেদ, সমাস, সমার্থক শব্দ, এককথায় প্রকাশ, অনুবাদ, বানান শুদ্ধি, বাগধারা, বাক্যসংকোচন—এই অধ্যায়গুলোতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। প্রচুর ইংরেজি রিডিং পড়তাম। এতে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে একটা স্বাভাবিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, নতুন অনেক ইংরেজি শব্দের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে। নতুন শব্দের একাধিক সিনোনিম ও অ্যান্টোনিম খাতায় লিখে সুর করে মুখস্থ করতাম। ইংরেজি পরীক্ষায় সমসাময়িক বিষয়ের ওপর রচনা, লেটার, ফিল ইন দ্য ব্ল্যাংকস থাকতে পারে। এ

ছাড়া গ্রামার অংশ থেকে Tense, Voice, Narration, Article, Parts of speech, Correct spelling, Synonyms & Antonyms, Noun, Translation প্রভৃতি বিষয় চর্চা করেছি বেশি। এসব টপিক থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পদের পরীক্ষায় বেশি প্রশ্ন আসে। সাধারণ জ্ঞানে ভালো করার জন্য দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক বিষয়, বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি, পরিবেশ, জলবায়ু, বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, অর্থনীতি, মুদ্রা, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা

রাখার চেষ্টা করেছি। মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় সাধারণত আইকিউ ও কুইজ টাইপের প্রশ্ন থাকে। পাটিগণিত ও জ্যামিতির ধাঁধাও দেওয়া হয় অনেক ক্ষেত্রে। বেশি প্রশ্ন আসে সাদৃশ্য, বৈসাদৃশ্য শব্দ বা সংখ্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যার সমাধান, সম্পর্ক নির্ণয়, গাণিতিক যুক্তি অভীক্ষা, ভার্বাল রিজনিং থেকে। প্রশ্ন হতে পারে সাধারণ জ্ঞান (পূর্ণ রূপ, সঠিক উত্তর, টার্মিনোলজি, সংক্ষিপ্ত টীকা) থেকেও। আমি বিসিএস ও আইবিএ ভর্তি পরীক্ষার মানসিক দক্ষতা অংশ অনুশীলন করে এ ক্ষেত্রে ভালো ফল পেয়েছি। এরপর

মৌখিক পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কোনো সিলেবাস নেই। আমি স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয় এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পড়াশোনা করেছি। এ ছাড়া আমার নিজ জেলা, উপজেলা সম্পর্কে ধারণা যেমন—এলাকার বিখ্যাত ব্যক্তির নাম, জেলার আয়তন, জনসংখ্যা, সংসদ সদস্যের নাম, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ইত্যাদি বিষয় জানার চেষ্টা করেছি। চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যা পড়তাম, আনন্দের সঙ্গেই পড়তাম। যখন পড়ার ইচ্ছা করত, পড়তাম। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ছোটবেলা

থেকেই ভালো ছিলাম, কিন্তু সমস্যা হতো গণিতে। গণিত আমার কাছে কঠিন লাগত। এ জন্য দীর্ঘ সময় নিয়ে অষ্টম ও নবম শ্রেণির গণিত বই অনুশীলন করেছি। পাটিগণিত থেকে লসাগু, গসাগু, ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত-সমানুপাত প্রভৃতি অধ্যায় অনুশীলন করেছি। এতে খুব ভালো ফল পেয়েছি

About admin

Check Also

সংসার সামলেও এএসপি হয়ে ওঠেন জান্নাত!

ছোট বেলা থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন এমন কিছু করার যা দিয়ে মানুষের সেবা দেয়া যায়। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Alert: Content is protected !!