Breaking News
Home / Exception / কঠিন পরিশ্রমকে অবলম্বন করে বড় হয়ে ওঠা ভারতী এখন স্বপ্ন দেখছেন ভবিষ্যতে আইএএস অফিসার হওয়ার

কঠিন পরিশ্রমকে অবলম্বন করে বড় হয়ে ওঠা ভারতী এখন স্বপ্ন দেখছেন ভবিষ্যতে আইএএস অফিসার হওয়ার

ঘরে আলো ছিল না। তাই ফুটপাথের আলোতে পড়াশোনা করেই ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে উঠেছিলেন বিদ্যাসাগর। যা আজও সকলকে অনুপ্রেরণা দেয়। তবে এই কাহিনী ফুটপাথের আলোয় পড়ার নয়। এই গল্প এমন এক মেয়ের যার পরিবারের ঘরবাড়ি সবই ছিল ফুটপাথ।

সেই ফুটপাথেই মন দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিল সে। ঈশ্বরও খালি হাতে ফেরাননি। মাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হওয়ার পর দেখা গেল ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করেছে সে। এহেন অসামান্য কীর্তির আরও একটা উপহার হাতেনাতে মিলেছে। এই রেজাল্ট দেখে তার পরিবারকে একটি নতুন ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছে পুরনিগম কর্তৃপক্ষ।

যাকে নিয়ে এত কথা হচ্ছে নাম তার ভারতী খান্ডেকর। দিনমজুরের মেয়ে সে। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের ফুটপাথেই তার গোটা পরিবারের বসবাস। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের দশম শ্রেণীর পরীক্ষার ফলাফল বেরিয়েছে। তা বের হওয়ার পরই দেখা যায়, পরীক্ষায় ৬৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে ভারতী। এই খবর চাউর হতেও বেশি সময় লাগেনি।

যা পৌঁছে যায় ইন্দোরের পুর কমিশনার প্রতিভা পালের কানে। তারপরই ভারতীর পরিবারকে একটি নতুন এক কামরার ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুধু ফ্ল্যাট নয়, ভারতীর যাতে কোনও ধরনের অসুবিধা না হয় সেই কথা ভেবে টেবিল, চেয়ার, বই এবং নতুন জামাকাপড়ও উপহার দিয়েছেন পুর কমিশনার। এমনকী ভারতীর আগামী দিনের পড়াশোনা যেন বিনামূল্যে হয় সেই ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তিনি।

ভারতীর বাবা দশরথ খান্ডেকর জানান, তিনি নিজে কখনও স্কুলে জাননি। তবে বাচ্চাদের যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না থাকতে হয় তার জন্য যা যা করার করেছেন। আগে তাদের মাথা গোঁজার জন্য একটা কুড়ে ঘর ছিল বটে, কিন্তু এলাকা দখলের জেরে তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‘আমি আর আমার স্ত্রী দু’জনেই দিনমজুর। সকালে আমি কাজে যাই এবং আমার স্ত্রী একটা স্কুলে সাফাইকর্মীর কাজ করেছে। ভারতী ওর ছোট ভাইদের লক্ষ্য রাখে। তারপর ও রাত একটা পর্যন্ত পড়ে’, জানান দশরথ। কঠিন পরিশ্রমকে অবলম্বন করে বড় হয়ে ওঠা ভারতী এখন স্বপ্ন দেখছেন ভবিষ্যতে আইএএস অফিসার হওয়ার।

অভাবনীয় এই সাফল্যের জন্য নিজের অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন ভারতী। ‘আমার ৬৮ শতাংশ পাওয়ার কৃতিত্ব আমি বাবা-মায়ের যারা এত কষ্ট করে আমায় স্কুলে পাঠিয়েছেন। আমি খুব খুশি।

আমায় এই ঘর এবং ভবিষ্যতের পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।’ অন্যদিকে ভারতীর মা লক্ষ্মীদেবী নিজের মেয়েকে সাক্ষাৎ লক্ষ্মীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। করবেন নাই বা কেন? যার জন্য মাথার উপর ছাদ পাচ্ছে একটা গোটা পরিবার, সে তো লক্ষ্মীই বটে।

About admin

Check Also

মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করে ২ মাসে তার বিক্রি প্রায় আড়াই লাখ টাকা-

রিমি খোন্দকারের জন্ম ফেনীর সোনাগাজী উপজে’লায়। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন ফেনীতেই। ফেনী জিয়া মহিলা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Alert: Content is protected !!